দেশের জনপ্রিয় ইসলামি ব’ক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি এই প্রতিকূল প’রিস্থিতিতেও মানুষের সহায়তায় ইউটিউব-ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলের সাথে যুক্ত আছেন। বিগত যেকোনো বছরের ঈদের তুলনায় এই বছরের ঈদটি স’ম্পূর্ণ ব্য’তিক্রম।

কেননা এই ম’হামা’রিকালীন ঈদের সালাত জামায়াতে আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সকল মুসলিমের সুবিধার্থে ঈদের সালাত আদা’য়ের নিয়মাবলি বর্ণনা করে আজহারী সাহেব একটি ভিডিও প্র’কাশ ক’রেছেন। ভিডিওতে করো'না প’রিস্থিতিতে সংক্র’মণ ঠে’কাতে ও সু’স্থতা বজায় রাখতে তিনি ঈদের সালাত একা বা ঘরে আদায় করার প’রামর্শ দিয়েছেন।

ড. আজহারী জা’নান, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঈদের নামাজে নিয়মাবলীগুলো হলো- ঈদের নামাজ সাধারণত দুই রাকাত হয়ে থাকে। ফজরের নামাজে'র ন্যায় আওয়াজ করে তাকবির পড়তে হয়। তবে ঈদের নামাজে অতিরি’ক্ত কিছু তাকবির দিতে হয়। অতিরি’ক্ত তাকবিরের বর্ণনা দিয়ে আজহারী বলেন, মাজহাব ভেদে তাকবিরের সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ছয়টি অতিরি’ক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকআতে তিনটি দ্বিতীয় রাকাআতে তিনটি।

সাফি মাজহাবে ১২টি অতিরি’ক্ত তাকবির দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম রাকআতে সাতটি ও দ্বিতীয় রাকআতে পাচটি। হাম্বলি আর মালিকি মাজহাবে ১১টি অতিরি’ক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকাআতে ছয়টি আর দ্বিতীয় রাকাআতে পাচটি।

তবে বাংলা ভাষাভাষীরা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আজহারী সাহেব ছয় তাকবিরের প’রামর্শ দিয়েছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী নামাজ আদা’য়ের পদ্ধতি হলো- নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সানা পড়তে হবে। তারপর কেরআন পড়ার আগে অতিরি’ক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে অর্থাৎ ‘আল্লাহু আক’বর’ তিনবার বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতেহার সাথে অন্য একটি সূরা এবং অন্য সকল নামাজে'র ন্যায় রুকু ও সিজদাহ ক’রতে হবে।

এবার দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাড়িয়ে প্রথমে কেরআন পড়তে হবে অর্থাৎ সূরা ফাতেহা ও সাথে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ তিনবার বলতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে।

এখানে তিনটি অতিরি’ক্ত তাকবির ও চতুর্থটি নামাজে'র স্বা’ভাবিক তাকবির। এভাবে ছয়টি অতিরি’ক্ত তাকবির দেয়ার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে বলে জা’নিয়েছেন ড. আজহারী। তবে ঘরে ঈদের সালাত আদা’য়ের ক্ষেত্রে খুতবার প্রসঙ্গটি বাদ যাবে। কেননা খুতবা সকলের উদ্দেশে ইমাম সাহেব দিয়ে থাকেন।

আল্লাহ পাকের কাছে ম’হামা’রিকালীন সাহায্য ও রো’গমু’ক্তির জন্য প্রার্থনার আ'হ্বান জা’নিয়েছেন তিনি। একইসাথে সকলের রো’গমু’ক্তি কামনা ক’রেছেন।