প্রা’ণঘাতী করো'না ভা'ইরাসের সংক্র’মণ থেকে র’ক্ষা পেতে ঘরে বসে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ডাকতে ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অনুরো’ধ করলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফেসবুকে নিজে'র ভেরিফাইড পেইজে করো'না ভা'ইরাস থেকে সর্তক থাকার বেশ কিছু করনীয় জা’নিয়ে পোষ্ট ক’রেছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক মাশরাফি।

৪ মিনিট ৪৫ সেকেেেন্ডর একটি ভিডিও বার্তায় মাশরাফি বলেন, ‘আসসালামুু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। যদিও ভালো আছেন কথাটা এই মুহূ’র্তে বলা ঠিক কিনা, কারণ সবাই মা’নসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারপরও কথা বলতে হবে। করো'না ভা'ইরাস, আম’রা সবাই জানি। অনেকেই কথা বলছি- সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানেই যাবেন দেখবেন, করো'না ভা'ইরাস নিয়ে সবাই আত’ঙ্কিত এবং আত’ঙ্কিত না হওয়ারও কোনো কারণ নাই। পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোও এখন বিপর্যস্ত । তারা কোনোভাবেই ট্যাকল দিতে পারছে না।’

‘এখন আমাদের কি করণীয়। আজকে যত বড় বড় দেশগুলো দেখছি, যেভাবে ভে'ঙে পড়ছে, আমাদের দেশটা তো এমনিতে ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যদি এরকম সংক’ট আসে, আল্লাহ না করুক, কি হতে পারে আম’রা সবাই বুঝতে পারছি। এই মুহূ’র্তে করণীয় অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমি মনে করি আমাদের সবারই করা উচিৎ। এক হচ্ছে, ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। আল্লাহর কাছে ডাকা যে, আল্লাহ আমাদের রহমত করুন। এই ধ’রনের দুর্যোগ থেকে আমাদের সহযোগিতা করুন যেন না হয় এবং সবাই যেন সু’স্থ থাকে।’

আল্লাহকে ডাকা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সাথে দ্বিতীয় করণীয় কাজ কি, তাও জা’নিয়েছেন মাশরাফি, ‘অবশ্যই অবশ্যই প্রবাসী ভাই-বোনেরা যারা বিদেশে থাকেন, আ’সছেন দেশে বা যারা বেড়াতে গিয়েছিলেন আর দেশে আ’সছেন, তাদের কিন্তু অনেক কিছু করার আছে। প্রথম হচ্ছে, নিয়ম-কানুনগুলো অবশ্যই মেনে চলা। কোয়ারেন্টাইন এই শব্দটা ব্যবহার করে আমি বলব, গৃহব’ন্দী থাকা। সেটা পরিবার নিয়ে না, আপনি আ’লাদা ১৪ দিন থাকা। ১৪ দিন পার হওয়ার পরে যদি আপনি অসু’স্থ না হোন তখন আপনার পরিবারকে নিয়ে ঘরে থাকা। যতক্ষণ না পর্যন্ত চিকি’ৎসক বা সমাজে'র উচ্চ-পদস্থরা ঘো’ষণা না করছেন যে, আম’রা নি’রাপদ, ততক্ষণ ঘরে থাকা।’

‘এরপরেও অবশ্যই আমাদের অনেক করণীয় আছে। যেটা হচ্ছে, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। ১৫-২০ মিনিট অন্তর-অন্তর নিয়মিত পানি পান করা এবং আপনার ঘর, আপনার চারপাশটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমাদের এসব নিয়ম-কানুনগুলো মেনে চলতে হবে। এর থেকে ক’ঠিন পরিস্থিতে যাওয়ার পরে আম’রা কিন্তু আর সুযোগ পাবো না। তাই আমাদের উচিৎ এখন থেকেই এই জিনিসটাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা। কারণ এটা একটা রাষ্ট্রীয় সংক’ট হয়ে যেতে পারে। আম’রা কেউ জানিনা আশাপাশে কারা আছে। আম’রা যে বের হচ্ছি, কার হাত ধ’রছি, কি করছি, কেউ জানি না আ'সলে এ ভা'ইরাসটা কি নিয়ে পথ চলছে। কারণ এ ভা'ইরাসটা ১৪ দিন সময় নেবে আপনার বুঝার জন্য। তাই আমা’র কাছে মনে হয় যে, এটা গ’ভীরভাবে চিন্তা করার ব্যাপার।’

দেশের সবাইকে ঘরে থাকার অনুরো’ধও করেন মাশরাফি, ‘আম’রা যেটা গু’রুত্ব দিচ্ছি না, সেটা যদি আকস্মিকভাবে আমাকে, আপনাকে, আপনার পরিবারকে, পরিবারের কাউকে বা সামাজিকভাবে আঘা’ত করে সেটা কিন্তু সামাল দেওয়া খুব ক’ঠিন হবে। আমি আগেও বলেছি, ইতালির মতো বড় বড় দেশ, ইংল্যান্ড-স্পেন-চীন বলেন, সবাই কিন্তু হিমশিম খেয়েছে, খাচ্ছে। সেখানে আম’রা কতটুকু পারবো সেটা ভাবার এখন সময় এসেছে। কারণ দেশটা অনেক ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে কিন্তু ভাবার সময় আছে।’

‘আমাদের যে করণীয় জিনিসগুলো আছে, আম’রা করি। এটা করা খুবই প্রয়োজন। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন কিন্তু এখন আপনি নিজে। আপনি যদি আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন্সি ঠিকমত ক’রতে পারেন, আমি নি’শ্চিত, আম’রা কিছুটা হলেও আক্রা’ন্তের সংখ্যা কমাতে পারবো। অন্যথা দুর্যোগ হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। তাই আপনাদের কাছে বিনীত অনুরো’ধ আপনার ঘরে থাকুন। প্লিজ-প্লিজ-প্লিজ ঘরে থাকুন।’

‘আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকুন। আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখু’ন। আপনার সমাজকে সুরক্ষিত রাখু’ন। এটা আমা’র, আপনার-সবার দায়িত্ব। এই মূর্হুতে আম’রা কোন ভাবেই বিনা কারনে ঘর থেকে বের হতে পারি না। আম’রা সবাই অনেক সময় বলি, আম’রা সময় পাই না, আমাদের কাজে'র ব্যস্ততার কারনে আমাদের পরিবারকে সময় দিতে। আপনি এখন পরিবারকে সময় দেন। এখন আপনার কোনো কাজে'র ব্যস্ততা নেই। আপনি সময় দেন।’

‘আর যারা আছেন, তারা চেষ্টা করুন। যে জায়গা থেকে পারেন চেষ্টা করুন, একটা দূ'রত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন। যতটুকু না করলেই না। কিন্তু তারপরও আমি বলবো- প্রথমত, ঘরে থাকুন, আপনার সমাজকে আপনি র’ক্ষা করুন। ভালোো থাকুন সবাই। আসসালামু আলাইকুম।’