পোড়া মুখের কা’রণে অনেক অ’পমা’ন স’হ্য ক’রেছেন তিনি। একে তো এ’সি’ডদ’গ্ধ তার উপরে পরিবারেও এই নারী ছিলেন নিস্পেষিত। অ্যা’সি’ডে পো’ড়া মুখটি রোজ আয়নায় দে’খতেও বি’র’ক্ত হয়ে যেতেন তিনি। তার তো কোনো দো’ষ নেই, তবে কেন তার ভাগ্য এমন বদলে গেল?

বলছি মনিকা সিংয়ের কথা। জ্বি হ্যাঁ, তিনি একাধারে একজন পুরষ্কারপ্রাপ্ত বক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার, প্র’ভাবশালী ব্যবসায়ী এবং মহেন্দ্র সিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তার অ্যা’সি’ডে পো’ড়া মুখটিই এখন অন্যান্য অ্যা’সি’ডদ’গ্ধ নারীর ভরসার জায়গা। তিনি কীভাবে এই অব’স্থানে আ'সলেন, কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন? এমন প্রশ্নের সম্মু’খীন তিনি প্রায় প্রতিদিনই হয়ে থাকেন। ইন্ডিয়াটুডেতে দেয়া সাক্ষাতকারে সং’গ্রা’মী এই তার জীবনের গল্প জা’নিয়েছেন-

২০০৫ সালেই জীবন ত’ছন’ছ হয়ে যায়!

আমি বরাবরই পড়ালেখায় মনোযোগী ছিলাম। আমি তখন সবে ফ্যাশন ডিজাইনে দিল্লীর ন্যাশনাল ফ্যাশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে পড়তে শুরু করেছি। নতুন স্বপ্ন দেখছি ভবিষ্যতে একজন নামজাদা ফ্যাশন ডিজাইনার হবো। এরই মধ্যে আমি একজনের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাই। তবে আমি রাজি হইনি কা’রণ পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে চেয়েছিলাম। তখন আমা’র বয়স সবে ১৯। পরিবারের স’ঙ্গে ই আমি লাখনাওতে বসবাস করতাম।

একদিন কলেজে'র ফাঁকে এক বান্ধবীর স’ঙ্গে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম। বান্ধবী বলল গাড়ির কাঁচটি নামিয়ে রাখতে, তার নাকি দম ব'ন্ধ লাগছিল। অ’তঃপ’র তার কথা মতো কাঁচ নামালাম। আ’ক’স্মিকভাবে একটি বাইক আমা’র গাড়ির পাশে এসে অ্যা’সি’ড নি’ক্ষেপ করল। বাইকারের পিছনে যিনি বসে ছিলেন তিনিই এ কাজটি করেন। এক ঝলকেই আমি অ’পরা’ধী ও তার স’ঙ্গীর মুখটি দে’খতে পাই। আরে এটা তো ওই লোকটি, যিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

‘প্রেম নয় পড়ালেখা করব’ বলায় অ্যা’সি’ডে ঝ’লসে গেল আমা’র মুখ। ভাবতেও পারছিলাম না, মানুষ কীভাবে এতোটা নি’ষ্ঠুর হয়! মুখে সামান্য একটা ব্রণ বা কালো দাগ নিয়ে আমা’র বরাবরই দু’শ্চি’ন্তার শেষ ছিল না। অথচ আমা’র সৌন্দর্য মুহূ’র্তে ন’ষ্ট করে দিল এক ব’খা’টে। আমা’র তো কোনো দো’ষ ছিল না। এই ঘ’টনায় আমা’র মুখ গলা ও বুক একেবারে ঝ’ল’সে যায়। টানা এক বছর হা’সপা’তালে ভর্তি ছিলাম। বিভিন্ন অ’স্ত্রোপ’চার করাতে হয়েছে। হা’সপা’তালে বিছা’নায় শু’য়ে থাকতে থাকতে আরো নি’রাশ হয়ে পড়ছিলাম। বিগত ১০ বছরে মুখে মোট ৪৬ বার অ’স্ত্রোপ’চার করেছি আমি।

২০০৯ সালে ঘুরে দাঁড়ায়

হা’সপা’তালে থাকা অব’স্থায় নিজে'র মনের স’ঙ্গে অনেক যু দ্ধ করেছি। কেন আমি স্বপ্নগুলো পূরণ ক’রতে পারব না? চেহারা ন’ষ্ট হয়েছে তো কী, মেধা তো আছে। আমি কলেজে যাওয়া শুরু করি। আমা’র সহপাঠিরাও বেশ আন্তরিক ছিলেন। তারা আমাকে স’র্বাত্মকভাবে সাহায্য করেন। ২০০৯ সালে আমি ফ্যাশন ডিজাইনিং এর ডিগ্রি অর্জন করি। আমি কখনো চাইনি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করব, ওড়ানায় মুখ পেঁচিয়ে থাকব।

বাবা প্রথম থেকেই আমা’র প্রতিটি কাজে উৎসাহ দিতেন। তার কা’রণেই বোধ হয় আমি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। সে সবসময় আমাকে মনোবল শক্ত রাখার প’রামর্শ দিতেন। সামান্য এই কা’রণে আমা’র পুরো জীবনটা যেন ন’ষ্ট না হয়ে যায় এই প্রয়াসে দিন রাত খেটেছেন বাবা। জা’নেন? অ’পরা’ধীরা ঠিকই গ্রে’ফ’তার হয়েছিলেন। মাত্র ২৫ হাজার টাকার মাধ্যমে তারা মু’ক্ত হয়ে যায়। আমা’র জীবনের মূল্য কি মাত্র এই কয়েক হাজার টাকা?

২০১৪ সালে আমা’র গন্তব্য বদলে যায়

বিশ্বের সেরা ফ্যাশনের বিদ্যাপীঠে সুযোগ পায় আমি। পারসন্স স্কুল অব ডিজাইনে অধ্যায়নের সুযোগ পাই। এটা আমা’র জন্য সত্যিই এক আনন্দের বিষয় ছিল। অতীতের ময়লা ধুলা ঝেড়ে আমি যেন নতুন করে জীবন শুরু করার উদ্যম ফি’রে পেলাম। এরই মধ্যে আমা’র বাবার মৃ ত্যু আমাকে আবার ছি’ন্নভি’ন্ন করে দেয়। আনন্দের পর আবারো বে’দনা গ্রা’স করল আমাকে। আমি আবার দিশা হা’রিয়ে ফেলি।

নামকরা স্কুলে পড়তে অনেক অর্থের প্রয়োজন। অর্থ সংক’ট গু’রুত’র উদ্বেগের কা’রণ হয়ে দাঁড়ায়। সেখানকার টিউশন ফি না দিলে পড়তে পারব না। এরপর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চাই। সেসময় এভাবে অর্থ জোগাড় করা ছাড়া আমা’র আর কোনো উপায় ছিল না। এভাবে আমা’র গন্তব্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।

২০১৬ সালে স্বপ্ন পূরণ হয়

আমি পারসন্স থেকে স্নাতক সম্পন্ন করি ২০১৬ তে। শেষ বর্ষে থাকাকালীন ২০১৫ সালে বাবার নামে মহেন্দ্র সিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করি। অ্যা’সি’ডদ’দ্ধ নারী, যৌ… নি’র্যা’তনের শি’কার নারীদের হয়ে কাজ ক’রতে শুরু করি। আমা’র দল ভারী হতে থাকে। আম’রা নিজ প্রচেষ্টা অ’সহায় এসব নারীদের ক’ল্যাণে কাজ শুরু করি। বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষ’মতায়িত করার চেষ্টা করি। রূপ নয় বরং গুণই মানুষের সেরা অর্জন।

বর্তমান যে অব’স্থানে রয়েছেন মনিকা সিং

আপনার নিশ্চয়ই লক্ষ্মী আগরওয়ালকে চিনেন। যার জীবনের গল্পই দীপিকা পাড়ুকোন তার ছাপাক সিনেমায় তুলে ধ’রেছেন। এই চলচ্চিত্রটির গল্পের জন্য পরিচালকরা আমা’র স’ঙ্গে ই প্রথমে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে আমি ব্যস্ততার কারণে তাদের প্রকল্পে সং’যু’ক্ত হতে পারিনি। লক্ষ্মী এবং আমা’র যাত্রা অন্যরকম হতে পারে। তবে জীবনের এক দুঃসময়ের সম্মুখীণ আম’রা দু’জনেই হয়েছিলাম।

বর্তমানে আমি মহেন্দ্র সিং ফাউন্ডেশন নিয়েই ব্যস্ত থাকি। শত শত অস’হায় নারী আমা’র মুখের দিকে চেয়ে থাকে। তাদের ভরসার জায়গা আমি। তাদের প্রতি আমা’র অনেক দায়িত্ব। তাদের অধিকার আদায়ে আমি সর্বদা অগ্রদূত। তারা যাতে সমাজে'র কোনো সুযোগ হাতছাড়া না করে তা নি’শ্চিত ক’রতে চাই। সবাই যেন অন্যায়ের বিচার পায় সেদিকেও ক’ঠোর দৃষ্টিপাত রাখেন মনিকা সিং। ইচ্ছাশ’ক্তির কা’রণেই আজ জীবনযু দ্ধে জয়ী এক নারী তিনি।