দেশের বাজারে অনেকটা অপরিচিত ‘টিপা ফল’। দে’খতে অনেকটা আঙুর ফলের মতো, স্বাদ টক-মিষ্টি। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে এই ফল বিক্রি হয়ে থাকে। তবে পল্টন, গু’লিস্তানসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মি’লছে এই ফল।

বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ছাড়াও চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী ও চন্দনাইশের পাহাড়ি ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে টিপা ফলের গাছ জ’ন্মায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে এখনো এই ফলে চাষ শুরু হয়নি। তাই সংরক্ষণের অভাবে ফলটি হারিয়ে যাচ্ছে।

টিপা ফল পাকলে লালচে বেগুনি রঙয়ের হয়ে যায়। এর অভ্যন্তরের শাঁসের রং গোলাপি সাদা বা হালকা বাদামী। খোসাসহ পুরো ফল খাওয়া যায়। তবে ফলটির পূর্ণ স্বাদ পেতে খাওয়ার আগে টিপ মা’রতেই হবে। পাকা ফল হাতের তালুতে নিয়ে লাড্ডুর মতো ঘুরিয়ে বা টিপে যত নরম করে খাওয়া যায় ততই সুস্বাদু লাগে।

স্থানভেদে টিপা ফলকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়। ঢাকা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ‘টিপফল’ নামেই পরিচিতি। নরসিংদীতে ডাকা হয় ‘পেলাগোটা’ বা ‘পলাগোটা’ নামে। নারায়ণগঞ্জে'র স্থা’নীয় বাসিন্দারাও প্রায় কাছাকাছি নামে, ‘প্যালাগোডা’ ডাকে। কিশোরগঞ্জ এলাকায় ফলটির নাম ‘টরফই’। এছাড়াও টিপটিপানি, লুকলুকি, প্যালা, পায়েলা, ঝিটকি, টরফই, পানিয়ালা, পানি আমলা, পাইন্না, পাইন্ন্যাগুলা, বেহুই ইত্যাদি নামে ডাকা হয়।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, টিপাফলের শতকরা ৬০ ভাগ আয়রন। সালফার, ক্যালসিয়াম, ফসফেট ছাড়াও ১০ ভাগ রয়েছে ভিটামিন-সি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরো’গীদের জন্য এটি বেশ উপকারি। এই ফল খাবারের প্রতি রুচি বাড়িয়ে মুখের ক্ষ’ত সারাতে কা’র্যকর ভূমিকা পা’লন করে। নিয়মিত টিপাফল খেলে শ’রীরের বিষক্রিয়া পদার্থ বের করে দেয়। এই গাছের পাতা ও ফল ডায়রিয়া রো’গের প্র’তিরো’ধক।