বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যায় শ’রীরের একাধিক গু’রুত্ব পূর্ণ অ’ঙ্গের ক’র্মক্ষ’মতা বাড়াতে তেঁতুলের জুড়ি মেলা ভার। আ'সলে এর শ’রীরে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দে’হের অন্দরে প্রদাহ কমানোর মধ্যে দিয়ে একাধিক রোগকে দূ’রে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে।

সেই স’ঙ্গে দৃষ্টিশ’ক্তির উন্নতিতে, ত্বকের পরিচর্যায় এবং আরও নানা শা’রীরিক উন্নতিতে এই ফলটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। তাই রোগ মু’ক্ত সু’স্থ শ’রীর যদি পেতে চান, তাহলে সপ্তাহে কম করে ৫ দিন তেঁতুল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

১. ত্বক ভালো রাখে : তেঁতুলে আছে নানাবিধ উপকারি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং ভিটামিন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের বয়স কমাতে এবং বলিরেখা ভ্যানিশ ক’রতে বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে। তাই শ’রীরের বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স একই থাকুক, এমনটা যদি চান, তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় তেঁতুলকে কাজে লা’গাতে ভুলবেন না যেন!

এক্ষেত্রে ১ চামচ তেঁতুল নিয়ে তার স’ঙ্গে ১ চামচ বেসন এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেটি মুখে লা’গিয়ে কম করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ১-২ বার এই ভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দারুন উপকার পাবেন।

২. ডায়াবেটিস রোগকে নি’য়ন্ত্রণে রাখে: সরাসরি না হলেও প্ররোক্ষভাবে র’ক্তে শর্করার মাত্রাকে নি’য়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল দারুনভাবে কাজে এসে থাকে। আ'সলে এই ফলটিতে উপস্থতি বেশ কিছু এনজাইম, কার্বোহাইড্রেটের শোষণ মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফল ডায়াবেটিস রোগে আক্রা’ন্ত হওয়ার আশ’ঙ্কা হ্রাস পায়।

এখন প্রশ্ন ক’রতে পারেন কার্বোহাইড্রেটের স’ঙ্গে সুগারের কী স’স্পর্ক? একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শ’রীরে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বাড়তে থাকলে নানা কারণে র’ক্তে শর্করার মাত্রাও বৃ’দ্ধি পাওয়ার আশ’ঙ্কা থাকে। সেই কারণেই তো অনিয়ন্ত্রত মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেতে মানা করেন চিকি’ৎসকেরা।

৩. হার্টের ক্ষ’মতা বাড়ে: একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে তেঁতুলে থাকা একাধিক ভিটামিন এবং খনিজ ব্লাড প্রেসার নি’য়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই স’ঙ্গে র’ক্তে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জা’না আছে যে হার্টের ক’র্মক্ষ’মতা কমাতে ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল কোনও খামতিই রাখে না। তাই শ’রীর যখন এই দুই ক্ষ’তিকর রোগ থেকে দূ’রে থাকে, তখন স্বা’ভাবিকভাবেই হার্টের স্বা’স্থ্যের অবনতি ঘটার কোনও সুয়োগই থাকে না। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন তেঁতল খাওয়া কতটা জ’রুরি।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষ’মতার উন্নতি ঘ’টে: প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকার কারণে তেঁতুলে খাওয়া শুরু করলে শ’রীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর মাত্রা বৃ’দ্ধি পেতে শুরু করে। সেই স’ঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষ’মতাও এতটা শ’ক্তিশালী হয়ে ওঠে যে শুধু সংক্র’মণ নয়, ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫. নার্ভের ক’র্মক্ষ’মতা বাড়ে: বি কমপ্লেক্স হল এমন ভিটামিন, যা ব্রেন ফাংশনের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে। আ'সলে এই ভিটামিনটি শ’রীরে প্রবেশ করা মাত্র নার্ভ সেলের শ’ক্তি বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বা’ভাবিকভাবেই কগনেটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘ’টে।

সেই স’ঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃ'তিশ’ক্তিও বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত, তেঁতুলে বি কমপ্লেক্স ভিটামনিটি রেয়েছে প্রচুর মাত্রায়। তাই তো পড়াশোনা হোক কী ক’র্মজীবন, যে কোনও ফিল্ডে যদি উন্নতি ক’রতে হয় তাহলে তেঁতুল খাওয়া মাস্ট!

৬. হজ’ম ক্ষ’মতার উন্নতি ঘটায়: তেঁতুলে উপস্থিত ডায়াটারি ফাইবার হজ’মে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে হজ’ম শ’ক্তির বৃ’দ্ধি ঘটতে একেবারে সময় লগে না। এখানেই শেষ নয়, তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় “বিলিয়াস সাবস্টেন্স” যা খাবার হজ’মের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

ফলে বদ-হজ’মের আশ’ঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, একাদিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ক্রনিক কনস্টিপেশনের মতো স’মস্যা দূ’র ক’রতেও তেঁতুল দারুন কাজে আসে। এক কথায় পে’টের ভেতরে ঘ’টে চলে ছোট-বড় প্রতিটি কাজ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে এই ফলটি। ফলে যে কোনও ধ’রনের পে’টের রোগ হওয়ার আশ’ঙ্কা হ্রাস পায়।

৭. র’ক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘ’টে: তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শ’রীরে লহিত র’ক্ত কণিকার মাত্রা বৃ’দ্ধির পাশাপাশি অক্সিজেন সমৃদ্ধ র’ক্ত দে’হের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে।

এমনটা হওয়ার কারণে একদিকে যেমন প্রতিটি অ’ঙ্গের ক’র্মক্ষ’মতা বৃ’দ্ধি পায়, তেমনি অ্যানিমিয়ার মতো রোগও দূ’রে পালায়। প্রসঙ্গত, আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে সিংহভাগই অ্যানিমিয়ার শি’কার। তাই এদেশে তেঁতুল খাওয়া প্রয়োজনীয়তা যেন আরও অনেক বেশি, সে বিষযে কোনও সন্দে’হ।

৮. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে: মশলা হিসেবে তেঁতুলকে কাজে লা’গালে শ’রীরে হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড বা এইচ সি এ-এর মাত্রা বৃ’দ্ধি পেতে শুরু করে।
এই উপাদানটি শ’রীরে উপস্থিত অতিরি’ক্ত চর্বি ঝরিয়ে সার্বিকভাবে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পা’লন করে থাকে।

এখানেই শেষ নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে শ’রীরে ফাইবারের মাত্রা বৃ’দ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ক্ষিদে কমে যায়।আর একবার কম খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে সময় লাগে না।

৯. চুল পড়ার হার কমে: অতিরি’ক্তি হেয়ার ফলের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে আজ থেকেই তেঁতুলকে কাজে লা’গিয়ে চুলের পরিচর্যা শুরু করুন।
দেখবেন হেয়ার ফল একেবারে কমে যাবে। ফলে অসময়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশ’ঙ্কাও কমবে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে ১৫ গ্রাম তেঁতুল নিয়ে ১০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

তারপর তেঁতুলটা ভাল করে স্কাল্পে এবং চুলে লা’গিয়ে গরম টাওয়াল দিয়ে চুলটা ঢেকে নিতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফলতে হবে মাথাটা। সপ্তাহে ২ বার এই ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লা’গালে দেখবেন চুল পড়ার হার একেবারে কমে যাবে।