ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র এক উইকেট। বিশ্বকাপের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি মাশরাফি।

বিশ্বকাপ থেকে ফি’রে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন মাশরাফি। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট দূ’রে থাক, মিরপুর শেরেবাংলার চৌহদ্দিতেই তাকে দেখা গেছে খুব কম।

তবে দু সপ্তাহ হলো আবারও ২২ গজে মনযোগী হয়েছেন এই নড়াইল এক্সপ্রেস। উদ্দেশ্য এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ভালো কিছু করার।

এই আসরের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক যে তিনি। বিপিএলের অন্যতম সেরা পারফরমা’রও। বিপিএলে তিনি এবার খেলবেন ঢাকা প্লাটুনের হয়ে।

খেলা থেকে অনেকটা দূ’রে সরে থাকা ৩৬ বছর বয়সী মাশরাফি কি বীরদর্পে ফিরতে পারবেন? এমন প্রশ্ন অনেকের। অনেকের মতে বুড়োদের কাতারে চলে গেছেন তিনি। খেলার ধারও আগের মতো নেই।

আর এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই ক’ঠোর অনুশীলনে নেমেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের সেরা এই অধিনায়ক।

সেই লক্ষ্যে গত দুই সপ্তাহে ১০ কেজি ওজন কমিয়ে ফে’লে ছেন মাশরাফি। নিয়ম করে কাকডাকা ভোরে এসে মিরপুর অ্যাকাডেমি মাঠে রানিং ও জিম করে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা ক’রেছেন। শনিবার থেকে প্রায় ঘণ্টাদেড়েক ফুল রান আপে বোলিং শুরু ক’রেছেন এই ডান-হাতি পেসার।

মাঠে ফিরতে মাশরাফির এই মরিয়া হয়ে ওঠা প্রস’ঙ্গে সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলছেন ভিন্ন কথা।

তার মতে মাঠে অনেকদিন না দেখা গেলেও আড়ালে আবডালে থেকেই অনুশীলন করে নিজেকে ফিট রেখেছেন মাশরাফি।

গত দুই সপ্তাহের শা’রীরিকভাষায় এমনটাই বোঝা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ফাঁকে ফাঁকে, চুপি চুপি করে অনুশীলন করে যাচ্ছে মাশরাফি। ফিটনেস নিয়ে সে কাজ করেছে। ওজনও অনেক কমিয়েছে। দেখলেই বোঝা যায় যে, সে খুবই সিরিয়াস। এখনও তার ভালো করার আগ্রহ মরে যায়নি। আমি নি’শ্চিত সে এই বিপিএলে অনেক ভালো করবে।’

তিনি বলেন, ‘সে যখন খেলে গু’রুত্ব ের স’ঙ্গে ই খেলে। বাকিদের স’ঙ্গে তার পার্থক্য এখানেই। তাকে যে দল নিয়েছে তারা অবশ্যই ভালো করেছে। বিপিএলে সে ভালো করলে আমাদের জন্যও সেটা ভালো খবর হবে। বিপিএলের পরই অন্য সিরিজগুলো শুরু হয়ে যাবে।’

ঢাকা প্লাটুনের কোচ সাকিবের গুরু সালাউদ্দিন বলেন, ‘এই বিপিএলেই স্বরূপে ফিরবেন মাশরাফি, এটা আমা’র বিশ্বা’স। আর কয়েকটা দিন এভাবে অনুশীলন করে গেলেই সেই পুরনো মাশরাফিকে দেখবে টাইগার সমর্থকরা। বিপিএলের পুরো আসরটাতে খেলবে বলেই তো তাকে নেয়া হয়েছে। ’

২২ গজে ফিরতে মাশরাফির এই মরিয়া হয়ে ওঠা আর ক্রিকেটবোদ্ধাদের আশাবাদের দিকেই মাশরাফিভক্তরাই তাকিয়ে নয়; বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে যারা হৃদয়ে লালন করেন তারাও অপেক্ষায় থাকবেন।