‘মনে হয় যেন এই বোধহয় দম আ'টকে মা’রা যাব। মাত্র কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থাটা লাস্ট করে। কিন্তু তাতেই মনে হয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এতো ভয়ংকর, ওই সময়টা,’ নাম প্র’কাশে অনিচ্ছুক এই মানুষটির মত অভিজ্ঞতার কথা আমাদের আশেপাশে আরও অনেকের কাছ থেকে শোনা যায়। যাকে অনেকে ‘বোবায় ধ’রা’ বলে থাকেন।

চিকিৎ’সাশাস্ত্রের ভাষায় এই স’মস্যাকে বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস। স্লিপ প্যারালাইসিস হলে একজন ব্য’ক্তি কিছু সময়ের জন্য কথা বলা বা নাড়াচাড়া করার শ’ক্তি হারিয়ে ফে’লে ন। এটি সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে ওই সময়টায় রো’গী ভীষণ ঘাবড়ে যান, ভয় পেয়ে যান।

স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। এই প’রিস্থিতি যে কারও স’ঙ্গে যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে ব্রিটেনের জাতীয় স্বা’স্থ্যসেবা সংস্থা বা এনএইএস-এর তথ্য মতে তরুণ-তরুণী এবং কিশোর বয়সীরা স’বচেয়ে বেশি আক্রা’ন্ত হয়ে থাকেন। স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার পেছনে কিছু কারণকে চি’হ্নিত করা হয়েছে।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা ছেড়ে ছেড়ে ঘুম হওয়া। অসময়ে ঘুমানো। অনেক সময় কাজে'র সময় নির্দিষ্ট না হলে, অথবা দূ’রে কোথাও ভ্রমনে গেলে এমন ঘুমের স’মস্যা হতে পারে।

  1. মা’দকাসক্ত হলে অথবা নিয়মিত ধূমপান ও ম’দপান করলে।
  2. পরিবারে কারও স্লিপ প্যারালাইসিস হয়ে থাকলে।
  3. সোশ্যাল অ্যাঙ্কজাইটি বা প্যানিক ডিসঅর্ডার বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মা’নসিক স’মস্যা থাকলে।

বোবায় ধ’রার লক্ষণ:

  1. বড় করে নিশ্বা’স নিতে অনেক কষ্ট হয়। মনে হবে যেন বুকের মধ্যে কিছু চা’প দিয়ে আছে। দম বেরোচ্ছেনা।
  2. অনেকের চোখ খুলতে এমনকি চোখ নাড়াচাড়া ক’রতেও স’মস্যা হয়।
  3. অনেকের মনে হয় যে কোন ব্য’ক্তি বা বস্তু তাদের আশেপাশে আছে, যারা তার বড় ধ’রণের ক্ষ’তি ক’রতে চায়।
  4. ভীষণ ভয় হয়। শ’রীর ঘেমে যায়।
  5. হৃৎস্পন্দন ও শ্বা’স প্রশ্বা’সের গতি বেড়ে যায়। অনেকের র’ক্তচা’পও বাড়তে পারে।
  6. পুরো বিষয়টা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্র’ভাবটি কে’টে গেলে আগের মতো কথা বলা বা নড়াচড়া করায় কোন স’মস্যা থাকেনা। তারপরও অনেকে অস্থির বোধ করেন এবং পুনরায় ঘুমাতে যেতে উদ্বি’গ্ন হয়ে পড়েন।

স্লিপ প্যারালাইসিস আ'সলে গু’রুতর কোনও রো’গ নয়। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কিছু প’রামর্শ দিয়েছেন:

  1. রাতে অ'ন্তত ৬ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা। এবং সেই ঘুম যেন গ’ভীর হয়।
  2. প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অভ্যাস করা। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও।
  3. ঘুমের জন্য শোবার ঘরটিতে আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা ক’রতে হবে। যেন সেই ঘরে কোলাহল না থাকে, ঘরটি অন্ধকার থাকে এবং তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় থাকে, খুব বেশি না আবার কমও না। সম্ভব হলে ঘরে ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধি ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে।
  4. ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূ’র্তে ভারী খাবার সেইস’ঙ্গে ধূমপান, মদ পান এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা-কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  5. ঘুমাতে যাওয়ার অ'ন্তত চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করার চেষ্টা করা।
  6. ঘুমের সময় হাতের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ অর্থাৎ ঘুমের বাঁ’ধা হতে পারে এমন কোন বস্তু রাখা যাবেনা।
  7. দিনের বেলা দীর্ঘসময় ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে।
  8. স্লিপ প্যারালাইসিস হলে নিজে'র মনকে প্রবোধ দিতে হবে যে ভয়ের কিছু নেই, এই প’রিস্থিতি সাময়িক, কিছুক্ষণ পর এমনই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই সময়ে শ’রীর নাড়াচাড়া করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।