রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘ’টনা। বক্সা পাহাড় থেকে ৪ ঘণ্টা কাঁধে বয়ে গর্ভবতী মাকে নামানো হল সমতলের হাসপাতালে। পরে কালচিনির লতাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে শি’শুর স্বা’ভাবিক প্র’সব করেন সেই মহিলা। নবজাতকের ওজন হয় ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম।

৩০ বছরের দেমকান দুকপা ও তাঁর সন্তান দু’জনেই এখন সু’স্থ। এই ঘ’টনায় খুশিতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি পোস্ট করেন আলিপুরদুয়ার জে’লার উপমুখ্য স্বা’স্থ্য আধিকারিক-২ সুবর্ণ গোস্বামী। আর বক্সা পাহাড় চূড়ার আদমা গ্রাম থেকে গর্ভবতী মাকে কাধে বয়ে নামিয়ে আনার সেই ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

আলিপুরদুয়ার জে’লার উপমুখ্য স্বা’স্থ্য আধিকারিক-২ সুবর্ণ গোস্বামি বলেন, ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা স্বা’স্থ্য দপ্তরের সাহায্যে বক্সা পাহাড়ে স্বা’স্থ্য ও চিকিৎ’সার কাজ করে। তাদের প্রচেষ্টাতেই এই গর্ভবতী মাকে প্রত্যন্ত গ্রাম আদমা থেকে সমতলের হাসপাতালে নামানো সম্ভব হয়েছে।

তাদের আমি কুর্নিশ জা’নাচ্ছি। প্রত্যন্ত এলাকার জন্য সেই সব এলাকা থেকে মায়েরা হাসপাতালে এসে প্র’সব করাতে চান না। এই ঘ’টনা প্রতিষ্ঠানিক প্র’সবে অন্যতম মাত্রা যোগ করল।’

উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ার জে’লার কালচিনি ব্লকে ভুটান সীমান্তে বক্সা পাহাড় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬০০ ফুট উঁচুতে বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ টি গ্রাম রয়েছে। বক্সা পাহাড়ের নিচে সান্তালাবাড়ি থেকে ওপরের রাস্তায় কোনও যানবাহন যায় না।

ফলে সেখানে পৌছানোর একমাত্র উপায় পায়ে হেটে পাহাড় ডিঙিয়ে চলা। আদমা বক্সা পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় অবস্থিত। ফলে এই দুর্গম এলাকা থেকে মহিলাকে প্রতিষ্ঠানিক প্র’সব করানোয় এখন প্রশংসা কুড়োচ্ছে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া নামে সংস্থাটি।

এই সংস্থার কালচিনি ব্রাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার তুষার চক্রবর্তী বলেন, ‘আম’রা দীর্ঘদিন থেকে বক্সা পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় এই কাজ করছি। আম’রা চাইছি বক্সা পাহাড়ে ১০০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক ডেলিভারি। এখানকার সকল মায়েরা যাতে হাসপাতালে এসে প্র’সব করেন।

এছাড়া এই গ্রামের সব শি’শুদের টিকাকরণের আওতায় আনা আমাদের লক্ষ্য। আম’রা আমাদের কাজ করছি। এই মা যিনি ৪ ঘণ্টা এভাবে কাধে চে’পে হাসপাতালে এসে নর্মালভাবে শি’শুর জ’ন্ম দিয়েছেন তার সাহসিকতাকে কুর্নিশ না জা’নিয়ে পারছি না।’

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।