ডেঙ্গুজ্বরে আ’ক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে শি’শু রাইয়ান সরকার। তার মৃ ত্যুশো’কে পাথর মা ও বাবা। এদিকে রাইয়ানের ছোট্ট বোন মালিহাও ডেঙ্গুজ্বরে হাসপাতালে ভর্তি। তার অবস্থাও গু’রুতর। মৃ ত্যুর আগে রাইয়ানের একটি কথা এখনও কানে বাজছে তার বাবা-মায়ের।

রাইয়ানের মা রোমানা জা’নান,‘মালিহার আগে জ্বর এসেছিল। ওরা যা যা করবে দুজন একস’ঙ্গে ই করবে। তাই ছেলে আমা’র বারবার বলছিল- ‘আমা’রও জ্বর আসুক, তা হলে মালিহার পাশে শুয়ে ওর স’ঙ্গে কথা বলতে পারব। তার কথা যে সত্যি হবে কে জানত। সেও জ্বরে ভোগা শুরু করল। হাসপাতালে আনলে ডাক্তার জা’নান ডেঙ্গু হয়েছে।’

রাইয়ানের মৃ ত্যুর আগের মু’হূর্ত বর্ণনায় রোমানা বলেন, রাতে ঘুমের ঘরে আমা’র ছেলে বলছিল- ‘সব ভে’ঙে চুরে আসতেছে। আসিস না, তুই আসিস না।’ বলতে বলতে কেঁদে ওঠেন রোমানা।

রাইয়ানের স্মৃ'তি হাতড়ে মা বলেন, জ্বরে পড়ার আগে ঘরের ভেতরে ছেলেটা ফুটবল খেলছিল। কী জো’রে জো’রে বল পে’টাচ্ছিল। ওইটাই মনে হয় ওর শেষ খেলা ছিল।’

ছোট্ট বোনটির অবস্থাও গু’রুতর। ডেঙ্গুজ্বরে আ’ক্রান্ত হয়ে মালিহা সরকার (৬) মৃ ত্যুর স’ঙ্গে পা’ঞ্জা ল’ড়ছে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। রাইয়ানের বাবা মমিন সরকার জা’নান, মালিহা ১ আগস্ট থেকে ভর্তি আছে স্কয়ার হাসপাতালের ১১২৩ নম্বর বেডে। ঠিক এই বেডেই ৩১ জুলাই ভর্তি হয়েছিল রাইয়ান। ছেলের শরী’রের অবস্থা বেশি খা’রাপ হলে তাকে নিবিড় পরিচর্চাকে’ন্দ্রে নেয়া হয়। ঠিক তখনই মালিহাকে এই বেডে ভর্তি করা হয়।

মমিন সরকার চোখের পানি ফেলছিলেন আর বলছিলেন, ‘ছেলে মা’রা গেছে শুক্রবার দুপুরে। ছেলেকে নিয়ে যখন হাসপাতাল ছাড়ি তখন আমা’র মেয়ের প্লাটিলেট কমতে শুরু করে। ছেলের লা’শ যখন আমা’র কাঁধে, তখন মেয়ের অবস্থা ভালো না। এর চেয়ে অস’হায় সময় জীবনে আর কখনও কাটেনি।’

রাইয়ানের ক’রুণ মৃ ত্যু মানতে পারছেন না বাবা। বলেন ‘ছেলেটা যে আমা’র সত্যিই চলে যাবে এটি বিশ্বা’সই হয়নি। ডাক্তাররা যখন হাল ছে'ড়ে দিয়েছেন, তখনও আমা’র বিশ্বা’স ছিল রাইয়ান আবার স্বা’ভাবিক জীবনে ফি’রে আসবে। সে আমাকে শো’কের সাগরে ভা’সিয়ে চলে যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে চলে গেল। ছেলের লা’শ আমাকে ব’হন ক’রতে হলো।’

প্রসঙ্গত রাইয়ানের মৃ ত্যু হয় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে। রাইয়ান মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে'র ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। মালিহা তার একমাত্র বোন।

সূত্র: যুগান্তর